শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
Online Edition

সাকিব দেশের জন্য যা করেছে তা অবিশ্বাস্য----- তামিম

স্পোর্টস রিপোর্টার: দেশের ক্রিকেটের দুই বড় তারকা সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালের দ্বন্দ্বের খবর কারো অজানা নয়। দীর্ঘ সময় তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কটা ঘনিষ্ঠ থাকলেও এখন সেটা আর নেই। তবে অনেকেরই আবার আক্ষেপ, এই দুই তারকা ক্রিকেটারের সম্পর্কটা ঠিকঠাক থাকলে লাভবান হতো দেশের ক্রিকেটই। এবার তামিমও তেমন আক্ষেপের কথাই শোনালেন। ভারতীয় ক্রীড়া সাময়িকী স্পোর্টস্টারকে দেয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে সাকিবের সঙ্গে দ্বন্দ্ব প্রসঙ্গে তামিম অকপট জানালেন, তাদের সম্পর্কটা এখনো ঠিকঠাক থাকলে বাংলাদেশের ক্রিকেট আরও উপকৃত হতে পারতো। সেই সঙ্গে দেশের ক্রিকেটে সাকিবের অবদানের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তামিম। ভারতের ক্রীড়া সাময়িকী ‘স্পোর্টস্টার’- কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিবকে প্রশংসায় ভাসিয়ে তামিম বলেন, 'আমি বিশ্বাস করি, সাকিব দেশের জন্য যা করেছে তা অবিশ্বাস্য। তার সম্পর্ক যেমনই হোক না কেন, তাকে এড়িয়ে যেতে পারবেন না। সাকিব বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় তারকা।' সাকিবের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি নিয়ে তামিম জানান, নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক যেমনই থাকুক, দেশের ব্যাপারে তাদের নিবেদনে কোনো ঘাটতি ছিল না। তামিমের ভাষায়, 'সম্পর্কে উত্থান-পতন থাকবেই। কিন্তু একজনের কারণে যেন অন্য কারও ক্ষতি না হয়। আমরা দুজনেই দেশের জন্য খেলেছি। সাকিবকে নিয়ে আমি কখনোই মিডিয়া বা কোথাও আপত্তিকর কিছুই বলিনি, তাকে কখনো দোষ দেইনি।' এদিকে ভারতে টেস্ট সিরিজ খেলে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিয়েছেন সাকিব। দেশের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট খেলে এই ফরম্যাট থেকে বিদায় নেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলেও সেটি ঝুলে আছে নানা অনিশ্চয়তায়। কেউ কেউ সাকিবের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ বলেই ধরে নিয়েছেন। অন্যদিকে তামিম দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলের বাইরে। এখনও ফেরার কোনো সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না। তবে ক্রিকেটের সঙ্গেই আছেন তিনি। ভারতে বাংলাদেশ দলের সফরে ধারাভাষ্যকারের ভূমিকায় আছেন তামিম। ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ ওয়ানডে বিশ্বকাপের দল থেকে নাটকীয়ভাবে বাদ পড়েছিলেন তামিম ইকবাল। যা নিয়ে তুমুল সমালোচনা হয়েছিল সে সময়। দাবি করা হয়, ফিটনেস ইস্যুর কারণেই তামিমকে স্কোয়াডে নেয়া হয়নি। তাকে নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্টও নাকি কোনো ঝুঁকি নিতে চায়নি। অবশ্য বাদ পড়ার পর এক ভিডিও বার্তায় নিজের অবস্থান পরিস্কার করেছিলেন তামিম। তাকে মিডল অর্ডারে ব্যাট করতে বলায়-ই দল থেকে সরে গেছেন তিনি নিজেই। তামিম সরাসরি সাকিবকে নিয়ে কখনো সরাসরি কিছু না বললেও এতটুকুন ভদ্রতা অবশ্য দেখাননি টাইগার অলরাউন্ডার। ২০২৩ বিশ্বকাপের আগে ক্রীড়া ভিত্তিক টেলিভিশন টি স্পোর্টসকে দেয়া আলোচিত সেই সাক্ষাৎকারে তামিমকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করতেও ছাড়েননি সাকিব। টাইগার ওপেনারের ব্যাটিং পজিশন পাল্টে খেলতে না চাওয়ার মানসিকতাকে ‘বাচ্চামো' বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ ছাড়া আরও অনেক বিষয়ে জাতীয় দল সতীর্থকে নিয়ে তাচ্ছ্বিল্য করেও কথা বলেছিলেন সাকিব। দুই ক্রিকেটারের সম্পর্কের চূড়ান্ত অবনতিটা স্পষ্ট হয়ে যায় যেন তখনই। 'স্পোর্টস্টার'-কে দেয়া সাক্ষাৎকারে তামিম কথা বলেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচ নিয়েও। সম্প্রতি শ্রীলংকার প্রধান কোচ হয়েছেন তাদের কিংবদন্তি সনাৎ জয়সুরিয়া। ভারতেও নিজেদের সাবেক খেলোয়াড়দের দায়িত্ব দিয়েছে বিসিসিআই। বাংলাদেশে এমন কিছুর সম্ভাবনা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তামিম বলেন, 'প্রধান কোচ হওয়ার মতো বাংলাদেশে কেউ এখন আছে বলে মনে হয় না। হয়তো দু-তিনজন আছেন, যারা সহকারী কোচ হতে পারেন।' তবে দেশি কোচদের প্রাধান্য দেয়া নিয়ে তামিম বলেন, ‘বাংলাদেশ দলের কোচিং স্টাফে ৭০:৩০ অনুপাত থাকা উচিত। প্রধান কোচ পদে একজন বিদেশি ও তার সঙ্গে বড়জোর আরও দুজন বিদেশি কোচ থাকতে পারেন। সহকারী কোচ পদে বাকি ৭০ শতাংশ বাংলাদেশি নিয়োগ করা উচিত। তাতে স্থানীয় কোচদের গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে এবং একদিন তারা প্রধান কোচ হতে পারবেন।’ এদিকে নতুন কোচ পাওয়া নিয়ে তামিমের ভাষ্যে, ‘বাংলাদেশের বড় নামের পেছনে ছোটা বন্ধ করা উচিত। কারণ বিখ্যাত সবাই দলের জন্য ভালো কোচ হয় না। বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য কারা মানানসই, সেটা তাদের (বিসিবি) খুঁজে বের করতে হবে। সেই ব্যক্তিকে কঠোর পরিশ্রমী হওয়ার পাশাপাশি দলে কিছু যোগ করার সামর্থ্য থাকতে হবে।’ উল্লেখ্য, ভারতেই টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিয়েছেন সাকিব। আগামী বছর আসন্ন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলে ওডিআই ক্রিকেটেও অবসর নেয়ার কথা রয়েছে তার। অন্যদিকে, তামিমের ক্রিকেট ক্যারিয়ার নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। বোর্ড কিংবা ভক্তদেরও আশা, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ফিরবেন এই তারকা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ